দৌলতপুর থানা প্রতিনিধি, মো:শরিফুল হোসেন :
খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন রুট চালনা পানখালী ফেরিঘাট এখন যেন এক অচলাবস্থার প্রতিচ্ছবি। মৌসুমের তরমুজ পরিবহনের ব্যস্ত সময়ে সেখানে দেখা গেছে শত শত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের দীর্ঘ সারি। কিন্তু এই স্বাভাবিক ব্যস্ততার পেছনে লুকিয়ে আছে এক গভীর সংকট—জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতা এবং দাম বৃদ্ধির প্রভাব।
ভোর থেকেই ঘাট এলাকায় জড়ো হতে থাকে তরমুজ বোঝাই ট্রাক। কিন্তু দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও অনেক চালক সময়মতো পারাপার করতে পারছেন না। তেলের অভাবে অনেক যানবাহন মাঝপথেই থেমে যাচ্ছে, আবার যেগুলো চলছে সেগুলোর ক্ষেত্রেও ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে একদিকে যেমন চালকদের আয় কমছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও পড়ছেন লোকসানের মুখে।
চালকদের ভাষ্য, “আগে যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে ঘাট পার হতে পারতাম, এখন সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমনকি দিন পার করতে হচ্ছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের খরচ বেড়েছে, কিন্তু ভাড়া সেই অনুযায়ী বাড়েনি। এতে করে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সময়মতো তরমুজ গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে পচে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, যা সরাসরি আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কৃষক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট শুধু পরিবহন খাতেই নয়, পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
দাবি উঠেছে দ্রুত পদক্ষেপের:
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি যেন শুধু একটি ঘাটের সমস্যা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এক সতর্কবার্তা—যেখানে সময়মতো সিদ্ধান্তই পারে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে।