উপজেলা প্রতিনিধি, আবির হাসান:
খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম ডাকবাংলা মোড়ে মেয়ের সামনে গুলি করে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে রূপসা–বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মীনা মাসুম বিল্লাহকে। ঈদের বাজার করতে এসে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবারের কাছ থেকে চিরবিদায় নিতে হলো তাকে।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নগরীর ডাকবাংলা মোড় এলাকার বাটা বাজারের ভেতরে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাটা শোরুমের ভেতরে ৭ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ প্রবেশ করে মীনা মাসুম বিল্লাহকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার সময় নিহতের মেয়ে তার সঙ্গেই ছিলেন বলে জানা গেছে। বাবার ওপর এমন বর্বর হামলার দৃশ্য সামনে দেখে তিনি আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকেন।
হামলার পরপরই স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে হামলাকারীদের মধ্যে অশোক ঘোষ নামের একজনকে বিদেশি পিস্তলসহ আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে একটি দোকানের ভেতরে আটকে রাখে। এ সময় পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং ঈদের বাজার করতে আসা নারী–পুরুষরা ছোটাছুটি করতে থাকে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়। পরে সেনাবাহিনী এসে রাস্তা ফাঁকা করে আটক অশোক ঘোষকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত মীনা মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মীনা কামাল ওরফে ‘ফাটাকেষ্টো’র ভাই। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় হাসপাতাল এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, রাত ৯টার দিকে ডাকবাংলা মোড় এলাকায় ৭ জনের একটি সশস্ত্র দল মীনা মাসুম বিল্লাহকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পেছনে পূর্বশত্রুতা, শ্রমিক সংগঠনের দ্বন্দ্ব কিংবা আধিপত্য বিস্তার—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা