শেখ রাজু আহমেদ, ব্যুরো প্রধান :
খুলনা আদালত প্রাঙ্গণে প্রায় ১ কোটি টাকা সরকারি ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৫ কক্ষবিশিষ্ট একটি অস্থায়ী আদালত ভবনের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণের দাবি, নিম্নমানের ইট, অপরিষ্কার বালি এবং নামমাত্র সিমেন্ট ব্যবহার করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের কাজে কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতি ছাড়াই শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্মাণ কাজে মান নিয়ন্ত্রণের কোনো দৃশ্যমান তদারকি না থাকায় জনমনে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প হলেও বাস্তবে কাজের গুণগত মান অত্যন্ত নিম্নমানের।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, অথচ অসাধু চক্র সেই অর্থ লুটপাটের মাধ্যমে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে ভবন নির্মাণ করছে। এভাবে নির্মাণ কাজ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করে বলেন, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণেও যদি এমন অনিয়ম হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়— এমন প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এদিকে নির্মাণাধীন ভবনের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় তুলেছে। অনেকেই বলছেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের অনিয়ম চললেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে দুর্নীতিবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, অবিলম্বে নির্মাণাধীন আদালত ভবনের কাজ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোরও আহ্বান জানান তারা।
জনগণের প্রত্যাশা, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।