নিজস্ব প্রতিবেদক:
বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ-এর সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সমিতির সভাপতি মোঃ আঃ রহিম শিকদার এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তিপত্র, দায়িত্ব হস্তান্তর ও ভবিষ্যৎ দায়মুক্তি ডিড সম্পাদিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ মে ২০২৬) উভয় পক্ষ পারস্পরিক আলোচনা, সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং স্বেচ্ছায় সুস্থ মস্তিষ্কে এই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী সমিতির শেয়ার, বিনিয়োগ, প্রশাসনিক দায়িত্ব, অফিস সম্পদ বণ্টন এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক দায়-দায়িত্ব বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সভাপতি মোঃ আঃ রহিম শিকদার সমিতিতে তাঁর শেয়ার ও বিনিয়োগ বাবদ দাবিকৃত ৫ লক্ষ টাকা গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর সকল আর্থিক দাবি সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করেছেন। ফলে ভবিষ্যতে তিনি সমিতির মূলধন, শেয়ার, লাভাংশ, সম্পদ কিংবা অন্য কোনো আর্থিক খাতে অতিরিক্ত দাবি উত্থাপন করবেন না বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সমিতির অফিসে বিদ্যমান বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের ন্যায্য বণ্টনের অংশ হিসেবে অফিসের মালামালের নির্ধারিত অংশ প্রথম পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সম্পদ সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ বিরোধের সম্ভাবনাও দূর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চুক্তি অনুযায়ী, আজকের তারিখ থেকে সমিতির সদস্যদের সঞ্চয়, ঋণ, কিস্তি, বকেয়া আদায়, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য দায়-দায়িত্বের সঙ্গে প্রথম পক্ষের কোনো সম্পৃক্ততা থাকবে না। একইসঙ্গে তিনি এসব বিষয়ে কোনো দাবি বা হস্তক্ষেপও করবেন না।
অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সমিতির সকল প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ভবিষ্যতে সদস্য পরিচালনা, আয়-ব্যয় হিসাব, ব্যাংকিং কার্যক্রম, লাভ-লোকসান, অফিস ব্যবস্থাপনা, আইনগত বিষয়সহ সমিতির সার্বিক কার্যক্রম তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।
চুক্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যাংক হিসাব, নিবন্ধন, কমিটি সংক্রান্ত কার্যক্রম বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে প্রথম পক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবেন এবং কোনো ধরনের অসহযোগিতা করবেন না।
উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক, প্রশাসনিক বা সম্পত্তিগত দাবি উত্থাপন না করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে চুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ হলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করবেন।
সমিতির সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ-এর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত, স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে এবং সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
“সমঝোতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তই একটি প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের প্রধান ভিত্তি।”