নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের একের পর এক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও নগরীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত এখনো অবৈধ দখলমুক্ত হয়নি। উচ্ছেদের কিছুদিন পরই আবার ফুটপাতজুড়ে বসছে অস্থায়ী দোকানপাট। এতে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং জনভোগান্তি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর ডাকবাংলা মোড়, খালিশপুর, দৌলতপুর, ৭ নম্বর ঘাট, নিরালাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাত দখল করে অবাধে দোকানপাট পরিচালিত হচ্ছে। ফলে পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। এতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাতে গড়ে ওঠা অনেক দোকান থেকে নিয়মিত ভাড়া আদায় করা হয়। এ কাজে আশপাশের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা বৈধ দোকানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। ফলে উচ্ছেদ অভিযানের পরও অবৈধ দখলদাররা দ্রুত ফিরে এসে পুনরায় ফুটপাত দখল করে নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে অনেক মানুষ জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবসার স্থান বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে যারা অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে এবং এর পেছনে যারা প্রভাব বিস্তার করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ফুটপাত পথচারীদের অধিকার। এটি কোনোভাবেই ব্যক্তিগত ব্যবসার স্থান হতে পারে না। নগর পরিকল্পনা, আইন প্রয়োগ এবং পুনর্বাসন—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে খুলনার ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করা সম্ভব।”
নগরবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় উচ্ছেদ অভিযান সাময়িক স্বস্তি দিলেও জনভোগান্তির স্থায়ী সমাধান হবে না।