ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি,গুলশানারা আক্তার :
ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে জেলার সর্বত্রই বিদ্যুৎ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সেচ, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকোর মোট বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১২৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ৭৫ মেগাওয়াট এবং ওজোপাডিকোর ৫৪ মেগাওয়াট। অথচ বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭৭ মেগাওয়াট, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এই ঘাটতির কারণে প্রতিনিয়ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৪৫ হাজার ২৬৪ জন। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৩ লাখ ৯৯ হাজার ১২৬ জন, বাণিজ্যিক ২৫ হাজার ৮৪৫, সেচ পাম্প ১০ হাজার ৮৯৫টি, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য খাতে হাজার হাজার সংযোগ রয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে না পারায় সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৮ থেকে ৫৪ মেগাওয়াট। ফলে নির্ধারিত সময়ের বাইরেও জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন ফিডারে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
অন্যদিকে, ওজোপাডিকোর আওতায় বিনাইদহ ও আশপাশের এলাকায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৫৪ থেকে ৬০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৯ মেগাওয়াট। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট শুধু একটি সাময়িক সমস্যা নয়, বরং এটি দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধি, সুষম বণ্টন এবং কার্যকর পরিকল্পনা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে—অন্যথায় এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।