October 28, 2026, 7:37 pm
শিরোনাম:
ডুমুরিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত ইউএনও’র তত্ত্বাবধায়নে নব উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবা। নতুন রাস্তায় ইঞ্জিনিয়ারিং দোকানে চুরি! সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি, পরিচয় শনাক্তে সহযোগিতা কামনা ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টা: ডুমুরিয়ায় ৩ মাসের কারাদণ্ডসহ র্যাব-৬ এর হাতে ১ জন আটক মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা উন্নয়ন পরিষদের ডেউটিন, ভ্যানগাড়ি ও নগদ অর্থ বিতরণ পানি কচুর সাফল্য ছাড়িয়ে ডুমুরিয়ার নিউটন মন্ডল এখন লেবুর কলম তৈরিতে সফল: অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত গিলাতলায় সার্বজনীন পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান গিলাতলায় আলোকিত তারুণ্য ফুটবল টুর্নামেন্টে ইয়াং টেন ব্রাদার্স ক্লাবের জয়লাভ। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: হুইপ বকুল ডুমুরিয়ায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য

সাতরাস্তার মোড়ে ‘হাইজিন ফুড রেস্টুরেন্ট’-এন্ড পার্টি সেন্টার -এ নোংরা পরিবেশে খাবার পরিবেশন: জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকি, কঠোর শাস্তির দাবি

খুলনা প্রতিনিধি,

খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনার সাতরাস্তার মোড়ে, কাচ্চি ঘরের বিপরীতে অবস্থিত “হাইজিন ফুড রেস্টুরেন্ট” (প্রো: সজীব)-এ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কাস্টমারদের অভিযোগ অনুযায়ী, এখানে দীর্ঘদিনের নষ্ট তেল ব্যবহার করে খাবার রান্না করা হচ্ছে, যার রঙ কালো হয়ে পোড়া মবিলের মতো দেখাচ্ছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং দামের তুলনায় পরিমাণও কম দেওয়া হচ্ছে। রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর—চারদিকে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে, খাবার খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছে, ফলে তাতে পোকামাকড় বসছে (এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে), এমন খাবার খেয়ে অনেক কাস্টমার তাৎক্ষণিক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে রেস্টুরেন্টের মালিকের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা পারলে কিছু করেন, আমি এভাবেই আমার রেস্টুরেন্ট চালাবো।”
ভুক্তভোগী কাস্টমার এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন চঞ্চল বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ—আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ে এভাবে খেলা করা হচ্ছে। আমরা ভোক্তা অধিকার ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
খুলনা বারের অ্যাডভোকেট মিকাইল বলেন, “এ ধরনের রেস্টুরেন্টগুলো অধিক মুনাফার লোভে সাধারণ মানুষকে বিষ খাওয়াচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।”
অন্য কাস্টমার বদরুদ্দোজা খান, শেখ রিয়াজুল ইসলাম রিপনসহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। এসব রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে মালিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
⚖️ প্রযোজ্য আইন ও শাস্তির ধারা:
১. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯:
ধারা ৪২: নষ্ট বা ভেজাল খাদ্য বিক্রয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা ২ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
২. নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩:
ধারা ২৫ ও ২৬: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।
৩. দণ্ডবিধি, ১৮৬০:
ধারা ২৭২ ও ২৭৩: খাদ্যে ভেজাল বা ক্ষতিকর উপাদান মেশানো ও বিক্রির জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
📢 জনদাবি:
সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ দ্রুত তদন্ত করে রেস্টুরেন্টটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনস্বার্থে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।
👉 জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।