June 11, 2026, 6:08 am
শিরোনাম:
সুদখোরের কাছে অসহায় হোটেল ব্যবসায়ীর হৃদয়বিদারক আকুতি: “৩০ লাখ টাকা নিয়েও ছাড়ছে না, আমাকে বাঁচার সুযোগ দিন” প্রাইভেট ক্লিনিক সেরে হাজিরা দিতে আসেন ডুমুরিয়া হাসপাতালে সরকারি ডাক্তাররা। ডুমুরিয়ায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভিডিও শো প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত কোটি কোটি টাকার রহস্যময় লেনদেন, সোনার বার ও অবৈধ সম্পদের সন্ধান: অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য, উৎস জানতে চায় দেশবাসী মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বটিয়াঘাটায় বিশাল মানববন্ধন, ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন এলাকাবাসী বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃকে ঘিরে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: সাবেক সভাপতি মো:আ:রহিম শিকদারের বিরুদ্ধে স্টাফদের আর্থিক প্রলোভন,হুমকি ও প্রতিষ্ঠান অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার দাবি চুকনগরে অসহনীয় যানজট নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে সোচ্চার ‘নিরাপদ খুলনা চাই’ নড়াগাতীর পাখিমারা মোড়ে সশস্ত্র হামলা, ব্যবসায়ী হুমায়ুন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে খুলনার ডুমুরিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, নিহত ১ সদরপুরের আলোচিত হত্যা মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম: দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ

সুদখোরের কাছে অসহায় হোটেল ব্যবসায়ীর হৃদয়বিদারক আকুতি: “৩০ লাখ টাকা নিয়েও ছাড়ছে না, আমাকে বাঁচার সুযোগ দিন”

স্টাফ রিপোর্টার,খালিশপুর প্রতিনিধি :

স্টাফ রিপোর্টার,খালিশপুর প্রতিনিধি :
খুলনার খালিশপুর এলাকার এক সাধারণ হোটেল ব্যবসায়ীর হৃদয়বিদারক একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও অনুসন্ধানে গনমাধ্যম কর্মীর হাতে এসে পৌছেছে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি আজ চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। সুদের বোঝা এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, তিনি এখন নিজের পরিবার, সন্তান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, প্রায় তিন বছর আগে তিনি ৩ লাখ টাকা ধার নেন। পরে চলতি বছরের আরও ২ লাখ টাকা গ্রহণ করলে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লাখ টাকা। কিন্তু এই অল্প টাকার বিপরীতে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা সুদ দিতে দিতে তিনি ইতোমধ্যে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকারও বেশি পরিশোধ করেছেন বলে অভিযোগ করেন।
সুদখোরের উদ্দেশ্যে লেখা তার আবেগঘন চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, “আপনার শর্ত অনুযায়ী আমি কখনো টাকা দিতে ব্যর্থ হইনি। প্রতিদিন নিয়মিত টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন আমার বাবা, ভাই, বোন সবাই বিষয়টি জেনে গেছে। আমি আর পারছি না। আমাকে মাফ করে দিন। আমার পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ দিন।”
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সুদের চাপে তিনি এমন অবস্থায় পৌঁছেছেন যেখানে আত্মহত্যার চিন্তাও তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তিনি লিখেছেন, “আমাকে বাঁচাবেন না মারবেন, সেটা এখন আপনার হাতে। আমি নিরুপায় হয়ে আপনার কাছে আকুতি জানাচ্ছি।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছে, সমাজে সুদের নামে চলা এই ধরনের শোষণ ও মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তাদের মতে, উচ্চ সুদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করে দেওয়া এক ধরনের সামাজিক অপরাধ, যা পরিবার ধ্বংসের পাশাপাশি সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে চড়া সুদে অর্থ লেনদেন করে মানুষের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
স্থানীয়রা মনে করেন, সুদের ফাঁদে পড়ে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্ন আয়ের মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। তাই এই ধরনের অবৈধ সুদ কারবারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবি।
সচেতন মহলের দাবি— মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে যারা অবৈধ সুদ ব্যবসার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করছে, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এমন মানবিক বিপর্যয়ের শিকার না হয়।
“৫ লাখ টাকার বিপরীতে ৩০ লাখ আদায়! সুদখোরের কাছে হোটেল ব্যবসায়ীর কান্নাভেজা জীবনভিক্ষা”
“সুদের ফাঁদে নিঃস্ব ব্যবসায়ী: ‘আমাকে বাঁচার সুযোগ দিন’—সুদখোরের কাছে আকুতি”
“অবৈধ সুদের নির্মম শিকার খালিশপুরের ব্যবসায়ী, পরিবার নিয়ে বাঁচতে চেয়ে হৃদয়বিদারক চিঠি”
“সুদখোরের অত্যাচারে দিশেহারা ব্যবসায়ী: ‘জেল দিন, তবু আর সুদ দিতে পারব না’”
“সুদের নামে শোষণের ভয়াবহ চিত্র: ৫ লাখ টাকায় ৩০ লাখ আদায়ের অভিযোগ”