April 16, 2026, 3:44 am
শিরোনাম:
রেলিগেট–মানিকতলা সড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: স্বামী-স্ত্রী নিহত, “রয়েল পরিবহন” আটক যশোরে গ্রাম ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শিশু জুনায়েদ, থানায় অভিযোগ চিকিৎসা সেবা সাধারণ মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ- আলি আসগার লবি এমপি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা সকল বাংলাভাষী মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছা — ঐক্য, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আহ্বান  যশোরে ডিবির অভিযানে নগদ টাকা ও ইয়াবাসহ আটক ১ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ইরানে হামলার প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন ডুমুরিয়ায় নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন ঘিরে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আকরাম হোসেনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন: ডুমুরিয়ায় ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ হঠাৎ বদলি, নতুন বিতর্ক: ইউএনও হোসনে আরাকে রাজশাহীতে স্থানান্তর

রূপসায় ধর্মীয় শিক্ষকের মুখোশধারী তাণ্ডব: ভাই ও পরিবারের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ

স্ট্যাফ রিপোর্টার।

 

স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার রূপসা থানার নৈহাটী স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক খালিদ সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে নিজ পরিবার ও এলাকাবাসীর ওপর ভয়াবহ জুলুম, জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ এবং মিথ্যা মামলার পাহাড় গড়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার দাপট ও স্থানীয় এক সাব ইন্সপেক্টরের (এসআই) সহায়তায় তিনি তার বড় ভাই সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ ও তার পরিবারকে ঘরছাড়া করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
অপরাধের শুরু ও পারিবারিক বিপর্যয়: অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১১ সালে খালিদ সাইফুল্লাহর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতায় জড়িয়ে নিরালা মোড়ে রাজনৈতিক দলের অফিস পোড়ানো পরবর্তীতে ফকিরহাটে এক তরুণীকে বিয়ের আসর থেকে তুলে আনার সময় এলাকাবাসী গণপিটুনি দিয়ে থানায় সোপর্দ করে। এরপর থেকেই তিনি সুকৌশলে পারিবারিক সম্পদ একাই দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, বাবার জমানো ৮ লক্ষ টাকা ভাগ করে দেওয়ার নাম করে আত্মসাৎ এবং গ্রামের পৈত্রিক ভিটা সে এবং তার বোন জামাই বিক্রি করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করে। এই মানসিক শোকে তার বাবা ভারসাম্য হারিয়ে ২০১৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তার নানি বাড়ির জমি তার মামাকে নিয়ে বিক্রি করে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা এবং বড় ভাইয়ের কাছ থেকে বাড়ি বানানোর কথা বলে নেওয়া ধারের ১৫ লক্ষ টাকাও তিনি আত্মসাৎ করে। এই বিশাল অর্থ দিয়ে ২০২৫ সালে তিনি বিভিন্ন জায়গায় জমি কেনা ,সুদে টাকা লাগানো এবং মায়ের জায়গার ওপর একটি বিলাসবহুল তিনতলা ভবন নির্মাণ শুরু করেন।
বড় ভাই সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ নিজের পাওনা টাকা ফেরত চাইলে খালিদ সাইফুল্লাহ উগ্র রূপ ধারণ করে তার স্ত্রীর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মারধরসহ মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন, ব্যাংকের চেক,ঘরে জমানো টাকা এবং জমির দলিলপত্র ছিনিয়ে নেন । এমনকি বাধা দিতে এলে ছোট শিশুকেও লাথি মারতে দ্বিধা করেননি এই ‘ধর্মীয় শিক্ষক’।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, খালিদ সাইফুল্লাহ অত্যন্ত চতুরতার সাথে তার বৃদ্ধা মা ও বোনদের ব্যবহার করে থানায় উল্টো অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের এক অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশে তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। থানা থেকে কয়েকবার মীমাংসা করে দেওয়ার পরও তিনি বড় ভাইয়ের ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, নিজের অপরাধ ঢাকতে তিনি বড় ভাই ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা (সিআর ও নন-জিআর) সাজিয়েছেন। সম্প্রতি জনৈক ব্যক্তিকে চুরির অপবাদ দিয়ে মামলা করে মারধর করে বড় ভাইয়ের নাম বলানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে, শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধা মাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে ১১ তারিখ বুধবার রাত সাড়ে বারোটায় নামাজ পড়ার প্রস্তুতি কালে সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ কে রূপসা থানার এসআই সাইমুন মিয়া (বিপি 8908125178)ও এসআই ইমরান এর মাধ্যমে এরেস্ট করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগীর আকুতি: বর্তমানে সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, পুলিশের সেই এসআই-এর মাধ্যমে নতুন কোনো সাজানো মামলায় তাদের পুনরায় ফাঁসানো হতে পারে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি), জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানবাধিকার সংগঠন,নাগরিক সমাজ, সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া,সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং খুলনার ডিআইজি ও এসপির কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ এর দাবিগুলো হলো: খালিদ সাইফুল্লাহ ও তার স্ত্রীর সকল অপরাধের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। পুলিশ প্রশাসনের যে অসাধু কর্মকর্তা তাকে অবৈধ মদদ দিচ্ছেন, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। সকল প্রকার হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এলাকাবাসী ও নাগরিক সমাজ এই মুখোশধারী অপরাধীর মুখোশ উন্মোচন করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।