September 14, 2026, 5:27 pm
শিরোনাম:
ডুমুরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সেবা পেতে গ্রাহকের ভোগান্তি, ফোনে ধমক দিলেন এজিএম কম দিঘলিয়ার যোগিপোল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ৫ আলোচনায়, ৩ হেভিওয়েটে বাড়ছে সমীকরণ দিঘলিয়া প্রেসক্লাবের দুই সাংবাদিকের সুস্থতা কামনায় বিবৃতি মাছের অভয়ারণ্যে মৎস্য ভান্ডার বৃদ্ধির উদ্যোগ, মরা ভদ্রা নদীতে বিল নার্সারির পোনামাছ অবমুক্ত খুলনায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে হুইপ বকুলের অর্ধশতাধিক সাইকেল বিতরণ নজরুল বর্ষ-২৬’ উপলক্ষে প্রতিভা প্রি-ক্যাডেট স্কুলে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত দিঘলিয়ায় ভবনের পেছন থেকে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার দিঘলিয়ার গাজীরহাটে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ গাছ লাগানো মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বেশি বাসযোগ্য করে তোলা হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন

গাছ লাগানো মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বেশি বাসযোগ্য করে তোলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

বাকৃবি ক্যাম্পাসে ‘সবুজ পৃথিবী’র ময়মনসিংহ বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন

ময়মনসিংহ,প্রতিনিধি,১০ সেপ্টেম্বর:
একটি গাছ শুধু মাটিতে শেকড় ছড়ায় না; তার সঙ্গে শেকড় গড়ে ওঠে মানুষের ভবিষ্যৎ, জীববৈচিত্র্য এবং পৃথিবীর নিরাপদ অস্তিত্বের। সেই উপলব্ধি থেকেই ‘সবুজে বাঁচি, সবুজে গড়ি—আগামীর পৃথিবী হোক সবার’ প্রত্যয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সবুজ পৃথিবী’র ময়মনসিংহ বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বাকৃবি ক্যাম্পাসে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. জি. এম. মুজিবর রহমান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণকে কেবল একটি দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে দেখলে চলবে না। একটি গাছ লাগানোর পর সেটিকে বাঁচিয়ে তোলার দায়িত্বও নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান বাস্তবতায় পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, “গাছ লাগানো মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে একটু বেশি বাসযোগ্য করে তোলা।” বৃক্ষরোপণের প্রকৃত সাফল্য কতটি চারা রোপণ করা হলো, শুধু তার ওপর নির্ভর করে না; বরং কতগুলো গাছ দীর্ঘদিন টিকে থাকল এবং পরিবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখল, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাকৃবির ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির পরিচালক প্রফেসর ড. মো. শহীদুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয় জরুরি। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ পরিবেশকে সবুজ করার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কবি ও সমাজসেবক, লন্ডনপ্রবাসী মনোয়ার মোহাম্মদ বলেন, প্রকৃতি মানুষের সম্পত্তি নয়; মানুষ প্রকৃতিরই অংশ। তাই প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানে শেষ পর্যন্ত নিজেদের জীবনকেই রক্ষা করা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও মানবিক পৃথিবী রেখে যেতে সামাজিকভাবে আরও বড় উদ্যোগ প্রয়োজন।

‘সবুজ পৃথিবী’র উপদেষ্টা কবি ও সাংবাদিক স্বাধীন চৌধুরী বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধু ছবি তোলা, চারা লাগানো কিংবা একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে এর মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। একটি গাছ রোপণের সঙ্গে তার পরিচর্যা, সংরক্ষণ এবং পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারও যুক্ত করতে হবে। প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সবুজ আন্দোলনের মূল দর্শন।

তিনি বলেন, একটি চারা আজ হয়তো ছোট; কিন্তু তার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে বহু বছরের ছায়া, অক্সিজেন, পাখির আশ্রয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবীর সম্ভাবনা। তাই বৃক্ষরোপণকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের অংশ করে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘সবুজ পৃথিবী’র সভাপতি ডা. কায়েম উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সহিদ মাহমুদ।

বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট ড. ইসমাইল হোসেন বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্যের সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। নতুন করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপিত গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

‘সবুজ পৃথিবী’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সহিদ মাহমুদ বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগজুড়ে ধারাবাহিকভাবে বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষ সংরক্ষণ এবং পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। একটি চারা থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ একসময় বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বাকৃবি ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিক, পরিবেশপ্রেমী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. শারমিন আক্তার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. মো. জহিরুল আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা। ট্যুরিস্ট পুলিশ ময়মনসিংহ রিজিয়নের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন।