July 29, 2026, 7:29 pm
শিরোনাম:
খুলনা জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টার সঙ্গে নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও ভেজাল: দেখার কেউ নেই ডুমুরিয়ার আন্দুলিয়ায় বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ছানি রোগী বাছাই ডুমুরিয়ায় সদর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা শাহজাহান জমাদ্দারের ব্যাপক গণসংযোগ খুলনা জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের ১৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন কুয়েটে ভাইস-চ্যান্সেলরের বিশেষ উদ্যোগে প্রাক্তন শিক্ষার্থী সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত ডুমুরিয়ার‌ খর্নিয়া হরি ভদ্র নদী ডোমরা বিলের দুর্গত এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রশাসন # আরো‌ ২টি ড্রেজিং মেশিন এনে দূরুত্ব পলি তুলে ‌জরুরী ভিত্তিতে পলি অপসারণ নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার। ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ভিশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প বাড্ডায় অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে বিটাকের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ, তদন্তের দাবি মির্জাপুর ও সাজিয়াড়া সড়ক মেরামত: ডুমুরিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহজাহান জমাদ্দারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

ডুমুরিয়াসহ খুলনায় চাহিদার তুলনায় সাড়ে ৩ লক্ষর বেশি কোরবানীর পশু উৎপাদন

স্টাফ রিপোর্টার,শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা

স্টাফ রিপোর্টার,
শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা।

আসন্ন ঈদুল আজহায় এবার কোরবানীর পশু সংকট নেই। চাহিদার তুলনায় পশু উৎপাদন বেশি থাকায় এবার দামও ক্রেতাদের নাগালে থাকার আশা করা হচ্ছে। খুলনা বিভাগে এবার ১০.৭৯ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১৪.৪৭ লাখ কোরবানির পশু রয়েছে। এদিকে পরপর তিনবার টেন্ডার আহবান করেও কোন সাড়া না পাওয়ায় বরাবরেরমতো এবারও জোরাগেট পশুর হাট পরিচালনা করবে খুলনা সিটি করপোরেশন কেসিসি)।

জানতে চাইলে খুলনা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিওএলএস) পরিচালক ড. মোহাম্মদ গোলাম হায়দার বলেন, এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১০.৭৯ লাখ, যেখানে গত বছর তা ছিল প্রায় ৮.২৯ লাখ। কিন্তু এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহার আগে কোরবানির পশুর দাম কমানোর জন্য ১৪.৪৬ লক্ষ পশু প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, এখন স্থানীয় পশু দিয়েই শতভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে, কারণ বিভাগে মোট ৩,৬৭,৩৬০টি উদ্বৃত্ত পশু থাকবে, যা চাহিদার চেয়ে ৭৪.৬১ শতাংশ বেশি।

যেহেতু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত, তাই দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

‘ঈদুল আজহার আগেই বিভাগের ১০টি জেলা এবং খুলনা শহরের অস্থায়ী পশুর হাটে বিপুল পরিমাণে কোরবানির পশু আনা হবে। ফলে খুলনার চাহিদা মেটাতে অন্য দেশ থেকে পশু আমদানি করার কোনো প্রয়োজন নেই’ বলে জানান এই কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভাগের দশ জেলায় ১০,৭৯,৪৪৯টি কোরবানির পশুর চাহিদার বিপরীতে ৩,৬৭,৩৬০টি উদ্বৃত্ত রেখে মোট ১৪,৪৬,৮০৯টি কোরবানির পশু স্থানীয়ভাবে পালন করা হয়েছে।

এ বছরের কোরবানির পশুগুলোর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ১,৩০,৪২৭টি, বলদ ৩২,০২৭টি, গরু ৮২,৩০২টি, মহিষ ৪,০৮৯টি, ছাগল ৮, ৫১,৩৭০টি, ভেড়া ৫১,১৭৩টি এবং অন্যান্য ২১৬টি।

রূপসা উপজেলার সামন্তসেনা গ্রামের এক খামারের মালিক সাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, পশুখাদ্যের দাম বাড়ার কারণে এ বছর পশুর দাম কিছুটা বেশি হবে।

ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষক মো. দিদারুল আলম বলেন, তিনি প্রায় এক বছর ধরে শুধু ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুসি ও স্থানীয় পশুখাদ্য ব্যবহার করে সাতটি দেশি গরু পালন করছেন, পশুগুলোকে সুস্থ এবং ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছেন।

লিয়াকত হোসেন নামে আরেকজন কৃষক তাঁর পারিবারিক পশুপালনের ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন এবং পরে টিপনা গ্রামে তাঁর ভাইদের সাথে আট কাঠা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এই চাষাবাদ শুরু করেন। তাঁদের খামারে এখন গরুর পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি ছাগলও রয়েছে।

এদিকে খুলনা বিভাগের বেশ কিছু জেলায় গবাদি পশুর হাট বসতে শুরু করেছে, যদিও ব্যবসায়ী ও ইজারাদাররা বলছেন, আরও এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে কেনাবেচা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পশুর হাটের জন্য তিন দফায় টেন্ডার আহবান করেও সাড়া পায়নি কেসিসি

এদিকে খুলনার জোড়াগেটে কোরবানির পশুর হাট নিয়ে তিন দফায় টেন্ডার আহবান করা হলেও কোনো ঠিকাদার অংশ নেয়নি। ফলে ৪র্থ ও শেষ দফায় টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার টেন্ডার ওপেন করা হবে। সেখানে কেউ অংশ না নিলে নিয়ম অনুযায়ি হাট পরিচালনার দায়িত্ব নিবে কেসিসি। গত বছর কোরবানীর পশুর হাট পরিচালনা করে কেসিসি ২ কোটি ৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোরবানির হাট পরিচালনার জন্য গত ১২ মার্চ প্রথম দফায় টেন্ডারের আহবান করে কেসিসি। তখন এ টেন্ডারের ব্যাপারে কেউ কোনো সাড়া না দেওয়ায় পরবর্তীতে ৩১ মার্চ ও ৯ এপ্রিল আবারও টেন্ডারের আহবান করে। কিন্তু তখনও কেউ সাড়া না দেওয়া পরবর্তীতে আবার ২৩ এপ্রিল পত্রিকায় টেন্ডারের আহবান জানানো হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো ঠিাকাদার এ টেন্ডারের আহবানে সাড়া দেয়নি। কাল সোমবার টেন্ডার ওপেনিংয়ের দিন ধার্য রয়েছে। যদি কেউ অংশ না নেয় তাহলে সিটি করপোরেশন নিজেই হাট পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।

জানতে চাইলে কেসিসির বাজার শাখা কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার বলেন, কোরবানির পশুর হাটের দর ওঠানো হয়েছে দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা। তিনবার আহবান করা হয়েছে। কোনো সাড়া মেলেনি। চতুর্থ বারা ডাকা হয়। কাল সোমবার টেন্ডার ওপেনিংয়ের দিন ধার্য রয়েছে।

তিনি বলেন, যদি কোনো ঠিকাদার অংশ না নেয় তাহলে হাট পরিচালনারা দায়িত্ব নেবে সিটি করপোরেশন। গত বছরও টেন্ডার আহবান করা হলেও কেউ সাড়া দেয়নি। ফলে কেসিসি দায়িত্ব নিয়ে হাট পরিচালনা করে দুই কোটি সাত লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছিল। গত বছরে হাসিলের পরিমান ছিল ৪ শতাংশ। এবারও হাসিলের পরিমান একই থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, হাটে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে। পশু ও মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য রাখা হবে মেডিকেল টিম। হাটে এসে কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হয় সেজন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর জোর টহল থাকবে।

তাছাড়া নকল টাকা প্রতিরোধে থাকবে বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ। এক সপ্তাহ আগে থেকে হাট শুরু করতে হবে। ইতিমধ্যে হাট পরিচালনা করার জন্য কেসিসি সচিব (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা খাতুন বুশরাকে আহবায়ক ও বাজার শাখার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদারকে সদস্য সচিব করে ৩২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।