চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে গিয়ে হুমকি, কাঠের আঘাতে সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিকে আহত থানায় অভিযোগ দায়ের
এস.এম.শামীম, দিঘলিয়া খুলনা।
গত বৃহস্পতিবার(১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার সময় দিঘলিয়া উপজেলা গাজীরহাট ইউনিয়নের মাঝিরগাতী গ্রামের মৃত নিরাঞ্জন বিশ্বাসের পু্ত্র মিহির বিশ্বাস (৪৫) এর নিকট ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের শামসুর শেখের পুত্র আবজাল শেখ নামক এক চিহ্নিত অপরাধীর বিরুদ্ধে।
দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় মিহির বিশ্বাস নামক জনৈক সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়ার পর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এক সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী পিতাও একজন প্রতিষ্ঠিত ডাকাত ছিল। তারা চার ভাই সবাই পূর্ব থেকেই অপরাধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। ২০০৮ সালে তারা এলাকা ছেড়ে ভারতে চলে যায়। কয়েক বছর আগে এলাকার একটা মহলের অর্থায়নে ও পরামর্শে এলাকায় এসে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করে চাঁদা দাবি করে আসছে। এদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। পর্দার আড়ালে থেকে একটা মহল এই অপরাধী চক্রের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ায় তারা এলাকায় বেপরোয়া এবং গোটা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সম্প্রতি অভিযুক্ত ব্যক্তি তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়িতে এসে ভারী কাঠের লাঠি দিয়ে তার সারা শরীরে এলোপাথাড়ি আঘাতের পর আঘাত করতে থাকে। এ সময় তার হাত-পা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং বাম হাত ভেঙে গিয়েছে। অপরাধী ভিকটিমকে ফেলে যাওয়ার সময় টাকা না দিলে পরে এসে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে একটা প্রাইভেট ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে আহত মিহিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে দিঘলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় ঘটনায় স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর সংবাদ পেয়ে মাঝিরগাতী পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই জামিল এ প্রতিবেদককে জানান, ঘটনার পর আবজালকে গ্রেফতার করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ হাও সানওয়ার হুসাইন মাসুম এ প্রতিবেদককে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।