খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনার সাতরাস্তার মোড়ে, কাচ্চি ঘরের বিপরীতে অবস্থিত “হাইজিন ফুড রেস্টুরেন্ট” (প্রো: সজীব)-এ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কাস্টমারদের অভিযোগ অনুযায়ী, এখানে দীর্ঘদিনের নষ্ট তেল ব্যবহার করে খাবার রান্না করা হচ্ছে, যার রঙ কালো হয়ে পোড়া মবিলের মতো দেখাচ্ছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং দামের তুলনায় পরিমাণও কম দেওয়া হচ্ছে। রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর—চারদিকে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে, খাবার খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছে, ফলে তাতে পোকামাকড় বসছে (এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে), এমন খাবার খেয়ে অনেক কাস্টমার তাৎক্ষণিক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে রেস্টুরেন্টের মালিকের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা পারলে কিছু করেন, আমি এভাবেই আমার রেস্টুরেন্ট চালাবো।”
ভুক্তভোগী কাস্টমার এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন চঞ্চল বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ—আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ে এভাবে খেলা করা হচ্ছে। আমরা ভোক্তা অধিকার ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
খুলনা বারের অ্যাডভোকেট মিকাইল বলেন, “এ ধরনের রেস্টুরেন্টগুলো অধিক মুনাফার লোভে সাধারণ মানুষকে বিষ খাওয়াচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।”
অন্য কাস্টমার বদরুদ্দোজা খান, শেখ রিয়াজুল ইসলাম রিপনসহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। এসব রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে মালিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
⚖️ প্রযোজ্য আইন ও শাস্তির ধারা:
১. ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯:
ধারা ৪২: নষ্ট বা ভেজাল খাদ্য বিক্রয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা ২ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
২. নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩:
ধারা ২৫ ও ২৬: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।
৩. দণ্ডবিধি, ১৮৬০:
ধারা ২৭২ ও ২৭৩: খাদ্যে ভেজাল বা ক্ষতিকর উপাদান মেশানো ও বিক্রির জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
📢 জনদাবি:
সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ দ্রুত তদন্ত করে রেস্টুরেন্টটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনস্বার্থে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।
👉 জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।